
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস ও দক্ষ চালক তৈরির লক্ষ্যে ৬০ হাজার গাড়িচালককে প্রশিক্ষণ দিতে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)–এর মধ্যে একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সড়ক পরিবহন বিভাগে চুক্তি স্বাক্ষর
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের পক্ষে প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ সাব্বীর হাসান খান এবং বিআরটিসির পক্ষে চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) আব্দুল লতিফ মোল্লা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক। এছাড়া সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ পুলিশ, ডিজিএইচএস, বিআরটিএসহ প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটগুলোর কর্মকর্তা এবং বিশ্ব ব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প
সড়ক নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব ব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে “বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প” গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটি ১৮ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে একনেক সভায় অনুমোদন পায়।
প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমানো এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
Safe System Approach বাস্তবায়ন
প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Safe System Approach পাইলট ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই পদ্ধতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলো দক্ষ চালকের মাধ্যমে নিরাপদ যানবাহন পরিচালনা।
এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে চার মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৪০ হাজার নতুন দক্ষ চালক তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ২০ হাজার পেশাদার চালককে সড়ক নিরাপত্তা, পথচারীর অধিকার এবং উন্নত ড্রাইভিং কৌশল বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। অর্থাৎ, মোট ৬০ হাজার চালক প্রশিক্ষণ পাবেন।
বিআরটিসির ২৭ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম
প্রকল্পের এই প্রশিক্ষণ প্যাকেজটি ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে অনুমোদিত হয়। অনুমোদিত প্যাকেজের আওতায় সারাদেশে বিআরটিসির ২৭টি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট ও সেন্টারে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ কেবল সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই নয়, বরং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও বেকারত্ব হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।