
নিজেদের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘের (UN) তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।
বিকেল ৫টা থেকে অবস্থান কর্মসূচি
বৃহস্পতিবার বিকেল প্রায় ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে অংশ নেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, ফাতিমা তাসনিম জুমা, নিহত হাদির স্ত্রী এবং সংগঠনের অল্পসংখ্যক নেতাকর্মী।
সমাবেশে বক্তব্যে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, নিরাপত্তাজনিত বিষয় বিবেচনায় রেখেই তারা কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সীমিত রেখেছেন।
তিনি বলেন,
“আমরা চাইলে অনেক বেশি লোক আনতে পারতাম। কিন্তু নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সীমিত সংখ্যক কর্মী নিয়ে, শহীদ ওসমান হাদির স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে এখানে অবস্থান করছি। প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে সুস্পষ্ট আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত আমরা এই কর্মসূচি থেকে সরে যাব না। পূর্ণ বিচার নিশ্চিত না হলে আমাদের অবস্থান চলবে।”
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে
নিজেদের নির্দিষ্ট দাবির কথা তুলে ধরে জাবের বলেন, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ইনকিলাব মঞ্চ ও হাদির স্ত্রী একসঙ্গে যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছেন শুধু এই দাবিতে যে, তদন্তটি যেন আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধানে হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, ইনকিলাব মঞ্চ সরকার, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করে আসলেও, সংগঠনটি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পায়নি।
সংহতি জানাতে ঘটনাস্থলে রাজনৈতিক নেতারা
সন্ধ্যার দিকে জামায়াতপন্থী ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, নিহত শরীফ ওসমান হাদিও একই আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
যেভাবে হত্যা করা হয় শরীফ ওসমান হাদিকে
গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হন শরীফ ওসমান হাদি। এর একদিন আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
আহত হওয়ার পর প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাতে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান।
ঘটনার পর ১৪ ডিসেম্বর আব্দুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।