
জেসিআই বাংলাদেশ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে দুই দিনব্যাপী ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ সামিট ২০২৫, যা অনুষ্ঠিত হয় আইসিসিবি হল ২–এ। এই সামিটে অংশ নেন ৫০০ জনেরও বেশি শিল্পপ্রধান, কূটনীতিক, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা, কর্পোরেট নির্বাহীরা, তরুণ ইনোভেটর, উদ্যোক্তাগণ।
“ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ: ফ্রম লোকাল স্ট্রেংথ টু গ্লোবাল স্টেজ” থিমে অনুষ্ঠিত এই সামিট বাংলাদেশের বৈশ্বিক পরিচিতি আরও শক্তিশালী করার যৌথ জাতীয় আকাঙ্ক্ষাকে প্রতিফলিত করেছে।
সামিটে ব্যাংকিং ও ফিনটেক, হসপিটালিটি ও লাইফস্টাইল, আইএনজিও ও ডেভেলপমেন্ট, মেড ইন বাংলাদেশ, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ ও টেকনোলজি—এই গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো নিয়ে সেক্টরভিত্তিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি জেসিআই-এর ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রাম জেসিআই ইন বিজনেস (জেআইবি) এবং জেসিআই রাইজ সফলভাবে আয়োজন করা হয়, যেখানে বাংলাদেশের তরুণদের উদ্ভাবন ও উৎকর্ষতাকে তুলে ধরা হয়।
সমাপনী অনুষ্ঠানে ব্রুনেই দারুসসালামের হাই কমিশনার হিজ এক্সেলেন্সি হাজি হারিস ওসমান সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও যুবনেতৃত্বাধীন উন্নয়নের ওপর মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিডা’র বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর নাহিয়ান রহমান রোচি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও উদ্ভাবনের ভূমিকা তুলে ধরেন।
সামিটটির উদ্বোধন করেন জেসিআই বাংলাদেশ জাতীয় সভাপতি কাজী ফাহাদ, যিনি বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং, সহযোগিতা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির দিকনির্দেশনায় বিভিন্ন সেক্টরের সম্মিলিত ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রের অতিথি বক্তা, প্যানেলিস্ট এবং উন্নয়ন নেতারা অর্থনৈতিক রূপান্তর, ডিজিটাল উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করেন।
ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ সামিট ২০২৫–এর সফল আয়োজন ও বাস্তবায়ন নেতৃত্ব দেন ইভেন্ট অ্যাডভাইজার তাসহীন আজিম শেজান, ২০২৫ অ্যাডভাইজার টু ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট, জেসিআই বাংলাদেশ, সঙ্গে ছিলেন ইভেন্ট ডিরেক্টর মুহাম্মাদ আলতামিশ নাবিল, ২০২৫ ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট, জেসিআই বাংলাদেশ, এবং ইভেন্ট ডিরেক্টর ইরফান উদ্দিন, ২০২৫ ন্যাশনাল ট্রেজারার, জেসিআই বাংলাদেশ।
সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় সভাপতি কাজী ফাহাদ বলেন, “ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ সামিট শুধু একটি আয়োজন নয়—এটি একটি জাতীয় আন্দোলন, যা আত্মবিশ্বাসী, উদ্ভাবনী এবং বৈশ্বিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। দুই দিনের এই সামিট থেকে পাওয়া চিন্তা, সহযোগিতা ও প্রতিশ্রুতি আমাদের জাতীয় পরিচিতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বকে অনুপ্রাণিত করবে।”
সামিটটি বহু-মুখী সংলাপ, সেক্টরভিত্তিক সহযোগিতা এবং যুব নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করেছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কণ্ঠ আরও জোরালো করার লক্ষ্যে জেসিআই বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতিকে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এই সফল আয়োজনের পর জেসিআই বাংলাদেশ ভবিষ্যতে ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ সামিট-কে বার্ষিক ফ্ল্যাগশিপ উদ্যোগ হিসেবে আরও সমৃদ্ধ করার ঘোষণা দেয়।