
স্যাটেলাইট ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে ফসল পর্যবেক্ষণ, রোগ শনাক্তকরণ, ফলন পূর্বাভাস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় কৃষি খাতকে আরও দক্ষ ও টেকসই করা সম্ভব।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) কৃষি খাতে স্যাটেলাইট, ড্রোন ও এয়ারবর্ন প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের শিরোনাম ছিল ‘ইমপ্লিমেন্টেশন অব স্যাটেলাইট, ড্রোন অ্যান্ড এয়ারবর্ন টেকনোলজিস অন অ্যাগ্রিকালচার’। সেমিনারটির আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৯৬–৯৭ পুনর্মিলনী ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ১৯৯৬–৯৭ ব্যাচ পুনর্মিলনী ২০২৬-এর আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্ল্যা এবং সঞ্চালনা করেন অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. সামসুল আলাম, অধ্যাপক ড. এম. হাম্মাদুর রহমান এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের উপসচিব বি. এম. মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে ড. মুহাম্মদ ইমাদুর রহমান বলেন, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কৃষি ব্যবস্থায় প্রযুক্তিনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্যাটেলাইট চিত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে জমির স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ, পানির প্রয়োজন নির্ধারণ, কীট ও রোগের আগাম শনাক্তকরণ এবং ফসলের সম্ভাব্য ফলন নিরূপণ করা যায়, যা কৃষকদের সময়োপযোগী ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে দুর্যোগের আগাম পূর্বাভাস ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে স্যাটেলাইট প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এসব প্রযুক্তির ব্যবহার কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমাতে সহায়ক হবে এবং কৃষকদের ঝুঁকি হ্রাস করবে। সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এসব প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এসময় তিনি প্রযুক্তি বাস্তবায়নের বিভিন্ন ধাপ বর্ণনা করেন।